কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ এ ০৮:৫৫ PM
কন্টেন্ট: পাতা
| মামলা নং | শুনানীর তারিখ | বিবরণ | রায়/ সিদ্ধামত্ম |
| ০৫১ ০২/০৮/২০২০ | ২০/০৮/২০২০ ৩০/০৮/২০২০ রায়ের তারিখ ০১/০৯/২০২০ | বাদীঃ- সমসের আলী বিবাদীঃ- মিজান মিয়া জমি সক্রামত্ম মামলায় কাগজ পত্র দেখে রায় পেয়েছে মিজান মিয়া। | মিজান মিয়াকে বাড়ী মেপে সীমানায় নির্ধারন করা হয়েছে। |
গ্রামঃ কাচারীকান্দি
ইউনিয়নঃ ১২নং ফরাজীকান্দি
উপজেলাঃ মতলব উত্তর
জেলাঃ চাঁদপুর
বিভাগঃ চট্রগ্রাম
মামলা নং ও ধরনঃ ০১১/১৭ ফৌজদারী
মামলা নিষ্পত্তির সময়কালঃ ০৭দিন।
সাধারন পরিচিতিঃ হাফেজ আলী বেপারীর পুত্র আব্দুল হক বেপারী, গ্রামঃ কাচারীকান্দি, ইউনিয়নঃ ১২নং ফরাজীকান্দি, উপজেলাঃ মতলব উত্তর, জেলাঃ চাঁদপুর দুই পুত্র সন্তান নিয়ে অতি সাধারনভাবে জীবন যাপন করেন। সে কৃষি ও গরু পালন করে।
বিরোধের সুত্রপাতঃ আব্দুল হক বেপারী কৃষি কাজ করে সংসার পরিচালনা করেন। তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। কৃষি কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে গরু কিনেছিল। আব্দুল হকের প্রতিবেশী ১) জালাল উদ্দিন ২) সাইজ উদ্দিন প্রতিনিয়ত তাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। আব্দুল হকের গরু কোথায় বাধা থাকত তারা দুজনেই আগে থেকেই যানত। এক দিন তারা দুজন আব্দুল হকের গরু চুরি করে নিয়ে যায়।
হারানো গরু ফেরত পাওয়ার চেষ্টাঃ আব্দুল হক কৃষি কাজ করে গরু কিনে ছিলেন তাই তিনি অসহায় হয়ে পরেন। গরু ফেরত না পাওয়ায়র সম্ভাবনা দেখে ভেংগে পরেন। অবশেষে তিনি তার ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ঐ এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য লোকদের নিয়ে একটি শালিশী করেন। শালিশীতে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। এবং প্রতিবাদীরা শালিসি বৈঠকে আসেনি।
গ্রাম আদালতের সহায়তা গ্রহনঃ এভাবে একের পর এক প্রচেষ্টা করতে করতে শেষ পর্যন্ত আব্দুল হক বেপারী গ্রাম আদালতের শরনাপন্ন হন। সে সময় তিনি একে বারেই হতাস ও নিরাশ হয়ে যান। তিনি এক পর্যায়ে গরু পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন ঠীক সে সময় আসার আলো হয়ে আসেন ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি সকল বিষয়ে আব্দুল হক বেপারীর কাছ থেকে শোনে। ইউপি সদস্য আব্দুল হক বেপারী কে ১২নং ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আব্দুল হক বেপারী গ্রাম আদালতের নাম শোনে ঘাবড়ে যান। ইউপি সদস্য তাকে গ্রাম আদালত সম্পর্কে বিষদ ভাবে বুঝান। অতপর ইউপি সদস্যের কথায় একমত হয়ে আব্দুল হক বেপারী নিজের বাড়ি থেকে ৪ কি.মি. দূরে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।
গ্রাম আদালতে মামলাঃ আব্দুল হক বেপারী ১২নং ফরাজীকান্দি ইউনিয়নে যান। প্রার্থমিক পর্যায়র তিনি গ্রাম আদালত সহকারীর সাথে দেখা করেন। সকল কথা খোলে বলেন। তিনি গ্রাম আদালতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হন। এ বিষয়ে গ্রাম আদালত সহকারী সব কিছু খুলে বলেন। অতপর আব্দুল হক বেপারী ০৭/০৯/২০১৭খ্রিঃ তারিখে ১০টাকা ফি দিয়ে গ্রাম আদালতে মামলা করে।
তিনি গরু ফেরত পাওয়ার দাবীতে আব্দুল হক বেপারী, প্রতিবেশী ১) জালাল উদ্দিন ২) সাইজ উদ্দিন এর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০১১/২০১৭ ঐ দিনই চেয়ারম্যান সাহেব মামলাটি গ্রহন করেন। ১৪/০৯/২০১৭ খ্রিঃ তারিখে পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য প্রতিবাদীর প্রতি সমন জারী করা হয়। নির্ধারিত তারিখে আবেদনকারী ও প্রতিবাদী উপস্থিত হন। তখন চেয়ারম্যান সাহেব আবেদনকারীর অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিবাদীকে অবগত করেন। প্রতিবাদী আবেদনকারীর অভিযোগ স্বীকার করেন এবং গরু ফেরত দিবে এবং গরু আনার জন্য ব্যায়ভার বাবদ ২১.০০০ টাকা প্রদান করে যাতে আবেদনকারীর দাবী সম্পূর্ন রুপে পূরণ দিয়েছে প্রতিবাদী।
রায় পরবর্তি অবস্থাঃ প্রতিবেশী আব্দুল হক বেপারী গরু পাওয়ার আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রাম আদালতের মাধ্যমে গরু ফেরত পান। এই অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তিতে তিনি খুব খুশী হন।
আব্দুল হকে বেপারীর স্বপ্নঃ তিনি জানান এই উপকারের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে তার মত দরিদ্রের ন্যয্য অধিকার আদায় করা সম্ভব হয়েছে। তাই তিনি বলেন গ্রাম আদালতের মত শ্রেষ্ঠ আদালত আর হতে পারে না।
তথ্য সংগ্রকারীঃ মামুনুর রশিদ, গ্রাম আদালত সহকারী, ১২নং ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ, মতলব উত্তর, চাঁদপুর।
--------------------------------------------
গ্রামঃ বড় হলদিয়া
ইউনিয়নঃ ১২নং ফরাজীকান্দি
উপজেলাঃ মতলব উত্তর
জেলাঃ চাঁদপুর
বিভাগঃ চট্রগ্রাম
মামলা নং ও ধরনঃ ০২৪/২০১৯ ফৌজদারী
মামলা নিষ্পত্তির সময়কালঃ ২১দিন।
সাধারন পরিচিতিঃ বাচ্চু প্রধানের স্ত্রী রীনা বেগম, গ্রামঃ বড় হলদিয়া, ইউনিয়নঃ ১২নং ফরাজীকান্দি, উপজেলাঃ মতলব উত্তর, জেলাঃ চাঁদপুর একজন পুত্র ও একজন কন্যা সন্তান নিয়ে অতি সাধারনভাবে জীবন যাপন করেন। কন্যাকে বিবাহ দিয়ে পুত্রকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। পাশাপাশি কৃষি কাজ করে থাকেন।
বিরোধের সুত্রপাতঃ রীনা বেগম কঠোর পরিশ্রম করে সংসার পরিচালনা করেন। তার স্বামীর কাছ থেকে কিছু টাকা জমা রাখত। রীনা বেগমের প্রতিবেশী (১) ইউনুছ মোল্লা, (২) মজিদা বেগম তার বাড়িতে যাতায়াত ছিল ও লেনদেন ছিল। মজিদা বেগম রীনা বেগমের কাছ থেকে ১৫,০০০/(পনের) হাজার টাকা ধার নেয়। মজিদা বেগম বলে ধারের টাকা ৩(তিন) মাসের মধ্যে পরিশোদ করে দিবে। অতঃপর মাসের পর মাস ঘুড়াতে থাকেন মজিদা বেগম।
টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টাঃ রীনা বেগম গরু পালন করে কিছু টাকা মজুদ রেখেছেন। তার টাকা গুলো ফেরত না পাওয়ায় তিনি অসহায় হয়ে পরেন। টাকা গুলো ফেরত না পাওয়ার সম্ভাবনা দেখে ভেংগে পরেন। অবশেষে তিনি তার ইউনিয়ন ২নং ওইয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন ও ঐ এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য লোকদের নিয়ে একটি শালিশী করেন। শালিশীতে এই সিদ্ধান্ত আসে যে তিনি ৩(তিন) মাসের মধ্যে টাকা গুলো পরিশোদ করে দিবেন। কিন্তু তারিখ মোতাবেক কোন টাকা পরিশোদ করেন নাই মজিদা বেগম। এভাবে দিনের পর দিন যায় কিন্তু রীনা বেগমের টাকা ফেরত পাওয়া হয় নি।
গ্রাম আদালতের সহায়তা গ্রহনঃ এভাবে একের পর এক প্রচেষ্টা করতে করতে শেষ পর্যন্ত রীনা বেগম গ্রাম আদালতের শরনাপন্ন হন। সে সময় তিনি একে বারেই হতাস ও নিরাশ হয়ে যান। তিনি এক প্রযায়ে টাকা পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন ঠীক সে সময় আসার আলো হয়ে আসেন ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ খোকন প্রধান। তিনি সকল বিষয়ে রীনা বেগমের কাছ থেকে শোনে। মোঃ খোকন প্রধান রীনা বেগম কে ১২নং ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রীনা বেগম গ্রাম আদালতের নাম শোনে ঘাবড়ে যান। ইউপি সদস্য মোঃ খোকন প্রধান তাকে গ্রাম আদালত সম্পর্কে বিষদ ভাবে বুঝান। অতপর ইউপি সদস্যের কথায় একমত হয়ে রীনা বেগম নিজের বাড়ি থেকে ৪ কি.মি. দূরে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।
গ্রাম আদালতে মামলাঃ রীনা বেগম ১২নং ফরাজীকান্দি ইউনিয়নে যান। প্রার্থমিক পর্যায়র তিনি গ্রাম আদালত সহকারীর সাথে দেখা করেন। সকল কথা খোলে বলেন। তিনি গ্রাম আদালতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হন। এ বিষয়ে গ্রাম আদালত সহকারী সব কিছু খুলে বলেন। অতপর রীনা বেগম ০৩/০৬/২০১৯খ্রিঃ তারিখে ১০টাকা ফি দিয়ে গ্রাম আদালতে মামলা করি।
১৫,০০০ (পনের) হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার দাবীতে রীনা বেগম মজিদা বেগমের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০২৪/২০১৯ ঐ দিনই চেয়ারম্যান সাহেব মামলাটি গ্রহন করেন। ০৯/০৬/২০১৯ খ্রিঃ তারিখে পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য প্রতিবাদীর প্রতি সমন জারী করা হয়। নির্ধারিত তারিখে আবেদনকারী ও প্রতিবাদী উপস্থিত হন। তখন চেয়ারম্যান সাহেব আবেদনকারীর অভিযোগ সম্পর্কে প্রতিবাদীকে অবগত করেন। কিন্তু প্রতিবাদী আবেদনকারীর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাই গ্রাম আদালতের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী ১৬/০৬/২০১৯ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে দুই পক্ষের সদস্য মনোয়নের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। গ্রাম আদালত সহকারী দুই পক্ষকে মনোয়নের ফরম প্রদান করেন। তা পূরন করার নিয়মাবলী বুঝিয়ে দেন। অতপর নির্ধারিত তারিখে দুই পক্ষই সদস্য মনোয়ন করেন। আবেদনকারীর পক্ষে মনোয়নকারী হন (১) জাকির প্রধান, ইউপি সদস্য ২নং ওয়ার্ড, (২) হারুন প্রধান। প্রতিবাদীর পক্ষে মনোয়নকারী হন (১) তফুরা আক্তার বুলু, ইউপি সদস্য ১,২,৩ নং ওয়ার্ড,(২) বশির প্রধান মিয়াকে মনোনিত করেন। দুই পক্ষের মোট চার জন সহ চেয়ারম্যান মহোদয়কে নিয়ে ৫ সদস্যের গ্রাম আদালত গঠন করা হয়। অতপর প্রতিবাদীকে লিখিত আপত্তি দাখিলের জন্য ১৯/০৬/২০১৯ খ্রিঃ পর্যন্ত তারিখ নির্ধারন করে দেওয়া হয়। পরবর্তি ২৩/০৬/২০১৯ খ্রিঃ প্রাক-বিচারের দিন ধায্য করা হয়। দুই পক্ষের মনোনীত সদস্যদের নির্ধারিত তারিখে বিচারে অংশগ্রহন করার জন্য অনুরোধপত্র প্রেরণ করা হয়। প্রতিবাদী লিখিত আপত্তি দাখিল না করলে নির্ধারিত তারিখে দুই পক্ষেই উপস্থিত হন। দুই পক্ষের জবানবন্দি গ্রহন করা হয়। আবেদনকারী ও প্রতিবাদীর জবানবন্দির প্রেক্ষিতে প্রতিবাদীর উপর আবেদনকারী অভিযোগের সত্যতা প্রতিয়মান হলে বিচারগন প্রাক-বিচারে উদ্যোগ গ্রহন করলে প্রতিবাদী তার দোষ স্বীকার করেন। দায় স্বীকার করে অতপর প্রতিবাদী ঐ দিনই আবেদকানকারীর কাছ থেকে ব্যবসায়িক বাবদ যে ১৫,০০০(পনের হাজার) টাকা নিয়েছে সেই টাকা আদালতে পরিশোদ করেন। রীনা বেগম তার পাওনা ১৫,০০০(পনের হাজার) টাকা ফেরত পানব।
রায় পরবর্তি অবস্থাঃ রীনা বেগম পাওনা টাকার আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রাম আদালতের মাধ্যমে টাকা ফেরত পান। এই অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তিতে তিনি খুব খুশী হন।
তথ্য সংগ্রকারীঃ মামুনুর রশিদ, গ্রাম আদালত সহকারী, ১২নং ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ, মতলব উত্তর, চাঁদপুর।